মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

সংরক্ষন ও নজরদারির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাখির প্রজনন

দোয়ারাবাজারে ডালে ডালে পাখির বাসা : গাছের ডালেই পাখির নিরাপদ আশ্রয়



সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ডালে ডালে পাখিদের কলরব। বিরল প্রজাতির পাখিদের নীরব অভয়াশ্রম উপজেলা সদরের কামার পট্টি এলাকা। এখানকার মনরোম পরিবেশ সবার মন কেড়ে নেয়। তবে এখানকার পাখিরা অতিথি নয়, সবুজ ঘেরা একটি ঝিলকে ঘিরে তিন যুগেরও বেশী সময় ধরে স্থায়ী ভাবে বাস করে আসছে কামারপট্টির অঘোষিত সবুজ বাগানের চিড়িয়া খানায়। পাখিদের কুহু কুহু আর কিচির মিচির ডাকে ভোরে এখানকার মানুষের ঘুম ভাঙ্গে। দিনভর এখানে শোনা যায় হরেক রকম পাক-পাখালিদের সুর। প্রতি বর্ষায় পাখিদের প্রজনন সময়। এসময় পান কউড়ী , বক সহ ভিন্ন জাতের পাখিরা ঢালে ঢালে বাসা করে ডিম পারে। কিন্ত পাখিদের বন সংরক্ষণ ও নজরদারির অভাবে প্রতি বছরই ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের প্রজনন। ঝর ও বৈরী আবওয়ায় পাখিদের ডিম গুলো মাটিতে পরে বিনষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ এবং বন কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের নজর দারির অভাব ও অবহেলার কারণে প্রতিনিয়ত বিঘœ ঘটছে হচ্ছে এখানকার পাখ-পাখালির প্রজনন। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরেই পাখিদের প্রতি এখানকার বাসিন্দাদের জেগে ওঠেছে অকৃত্রিম ভালবাসা ও প্রেম। সকলের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে পাখিরা সব মানুষের প্রতি যে ভয়ভীতি ছিল তা ভুলে গিয়ে বিল-ঝিলে গাছে গাছে তাদের নির্ভয় আশ্রয় বেছে নিয়েছে। এখানে পাখি শিকারীদের নেই কোনো উপদ্রব। মানুষ ও পাখিদের গভীর বন্ধুত্বে উপজেলা সদরে সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশের। দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে ভিন্ন প্রজাতির তিন সহস্রাদিক পাখির নীরব অভয়াশ্রম দেখলে মনে হবে এ যেন প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম। পরন্ত বিকেলে ঝিলের চর্তুদিকের সবুজ গাছপালায় কামারপট্টি ও আশপাশে উড়ন্ত পাখিদের নয়নভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করে এখনকার বাসিন্দাদেরও। বিকেলে অবসর সময়ে উপজেলায় কর্মরত সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা পেশার মানুষ দেখতে আসেন পাখি ও প্রকৃতির মনোরম মিলন দৃশ্য। দীর্ঘদিন যাবত কামারপট্টি এলাকাটি অগোচরে রয়ে গেলেও এখন ওই এলাকা একটি নীরব পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেছে। বৃক্ষ ও ঘন সবুজে সমাদৃত এলাকাটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে এমনিতেই শোভা বর্ধন করেছে। এর সাথে সবুজের ফাঁকে ফাঁকে সাদা ও সেনালী বলাকা, কালো প্রজাতির পানকৌড়ি, কাক, চিলের অবাধ বিচরণে আরো মোহনীয় করে তুলেছে এখানকার পরিবেশ। বৈশাখে সাদা ও সোনালী প্রজাতির বলাকা ডিম পাড়ে গাছের ঢালে ঢালে নিজেদের তৈরী বাসাতে। প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে গভীর যতেœ সুকৌশলে বসে থাকতে দেখা যায় মা পাখিদের।