সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১ | ১২ মাঘ ১৪২৭

শাল্লায় এবারও গরিবের ঘর পেলেন ধনীরা



শাল্লা উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত দুর্যোগ সহনীয় ঘর এবারও অপেক্ষাকৃত ধনীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানিয়েছেন, এবার গ্রামীণ দরিদ্র মানুষদের জন্য প্রতি ঘরে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে শাল্লা উপজেলায় ৩০ টি দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে কমপক্ষে ১০ টি ঘর পাচ্ছেন অপেক্ষাকৃত ধনীরা।

স্থানীয়রা জানান, ৫-৬ একর জমি আছে এমন অনেকে এবার শাল্লায় দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়েছেন।
শাল্লার কান্দিগাঁও গ্রামের ইকরাম উদ্দিন জানান, তাদের গ্রামে নিজাম উদ্দিন নামের একজন গৃহহীনের ঘর পেয়েছেন। অথচ. তার ৭ একরের মতো জমি আছে। বড় একটি বাড়িও রয়েছে তার। বাড়িতে পুরোনো টিনের ঘর ছিল, ওটা ভেঙে দুর্যোগ সহনীয় ঘর তৈরি করা হচ্ছে। এই গ্রামে নিজাম উদ্দিনের চেয়ে অনেক দরিদ্র মানুষ আছে, যাদের ঘর নেই, কিন্তু তারা পায় নি।

নিজাম উদ্দিনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তার বক্তব্য জানা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের বাহাড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের অমর চাঁদ দাস’র ঘর পাওয়া নিয়ে গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ। তার চেয়েও গরীব মানুষ ওই গ্রামে রয়েছেন।

অমর চাঁদ দাস এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি একজন ভূমিহীন মানুষ। আমার কোনো জমি নেই। সরকারের দেওয়া কিছু খাস জমি আমার আছে। ওই জমিতে এখনো চাষাবাদ করা যায়নি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুস ছাত্তার বলেন, গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৩০ টি ঘরের কমপক্ষে ১০ টি অপেক্ষাকৃত ধনীরা পেয়েছে। এর আগেও ৭২ টি ঘর বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছিল। পত্রপত্রিকায় সংবাদও হয়েছে। দুদক শুনেছি তদন্তও করেছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলামিন চৌধুরী বলেন,‘ঘর বরাদ্দ নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে অভিযোগ আসছে। আমরাও খোঁজ নিয়ে জেনেছি, অনেক গ্রামেই প্রকৃত গৃহহীনরা ঘর পায় নি। সমন্বয় কমিটির সভায়ও এ নিয়ে কথা হয়েছে। আমি বলেছি, গৃহ নির্মাণ স্থগিত রাখতে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানালেন, দুর্যোগ সহনীয় গৃহ প্রদানের তালিকায় অনিয়ম হয়েছে, এমন একটি লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। অমর চাঁদ দাস নামে একজনের বিষয়ে স্থানীয়রা আপত্তি তুলেছেন। আমরা বলেছি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেশের বাইরে, তিনি আসলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে এই কর্মকর্তা বলেন, এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গৃহহীন বাছাই করেছেন। কারো জমি থাকলেও হয় খাস জমি, না হয় জমি বন্ধক রেখেছে বহুদিন ধরে, এখন আর ছুটানোরও ক্ষমতা নেই। প্রকৃত গৃহহীনরাই ঘর পেয়েছে।

সূত্রঃ দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর