সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১ | ১২ মাঘ ১৪২৭

‘নছিমন’



ছলিমপুরের নছিমন, জেলে পাড়ার মেয়ে
বিয়ে দিয়েছে দুখী পিতা,কর্মঠ ছেলে পেয়ে।
দুইমাস হলো বিয়েটা তার,বয়স যে উনিশে
দুচোখ ভরা স্বপ্ন ছিলো,থাকবে মিলেমিশে।
কিন্তু এক বিকালেতে, বাজে ভাঙ্গনের সুর
মেয়েটি যে কানে কালা,ডাকলে খানিক দূর।
ছেলের মা বড্ড রাগী, কোমড়ে কাছা মেরে
বাপের বাড়ি পাঠাবে বউকে, জীবনের তরে!

দুখী পিতা খবর শুনেই, ছুটে জামাইর বাড়ি
সাথে নিয়েছে পান-জর্দা,দুখানা মিষ্টির হাড়ি।
ছেলের মা মিষ্টি ছুড়ে, বলছে হুঙ্কার দিয়ে
ঘরে রাখবে নাএ বউরে, সাথে যান নিয়ে।
গরীব পিতা কড়জোড়ে, বিরবিরিয়ে বলে
মেয়ে তার শুনবে কানে, চিকিৎসা পেলে।
কথা শুনে বেয়াইন তার,খিলখিলিয়ে হাসে
ঐদিনেরই বিকালে,ডাক্তার দেখাতে আসে।

ডাক্তার পেয়ে ছেলের মা, উঠেন তরতরিয়ে
বলে চলেন ডাক্তারকে সব, বউয়ের বিস্তরে।
পান বললে পানি আনে, ডাউল্ বললে চাল
বসতে বললে শুতে যায়, আজ বললে কাল।
বিয়ের আগে বেয়াই সাহেব, মিষ্টি কথা বলে
কালা মেয়েকে গছিয়েছে, চতুর খেলার ছলে।
ঐ বাড়ির পরশী থেকে, পাঠিয়ে আপনজন
জন্ম থেকে কানে শুনেনা, জেনেছি, নছিমন!
বলেন ডাক্তার সত্যি কথা, কান পরীক্ষা করে
সঠিক হলেই তালাক হবে! বলেন চিৎকারে।

তাকিয়ে দেখি নছিমন, নতুন এক শাড়ী পরে
বোকা হয়ে তাকিয়ে আছে পিতার হাত ধরে।
হলুদ রাঙ্গা মুখখানি তার, মায়ায় ভরা চোখ
ঘোমটা মুখে দোলছে নাকে, অপূৃর্ব নোলক!
চোখের জল টলটলিয়ে, পিতার গালটি বেয়ে
সাক্ষী করছে অধম আমায়, দুঃখের বলয়ে।
কি উচিত তবে কি করা যায়, চিন্তায় মগ্ন হই
মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে, বিবেককে বুঝাই।

সংসার যদি বাঁচে কারো, একটি মিথ্যা কথায়
সে পাপ আমি নিব পেতে,এ অধমের মাথায়।

ছেলেকে নিয়ে বাহিরে বসেন, বলি আমি হেসে
ডাকবো তবে প্রয়োজনে, পরীক্ষার ঠিক শেষে।
জন্ম থেকে আজ অবধি,পরছেই কানের পানি

সেই থেকেই কম শোনে কানে, ইতিহাসে জানি।
প্রদাহের জন্য পুজ হয়েছে,পর্দায় আছে ফুটো
পরীক্ষা করে জানা গেলো গলা,নাক,কান দুটো।
মেয়ের পিতাকে বলি আমি, চিন্তার কিছু নাই
কানে শুনবে আবার সে, চিকিৎসা আছে ভাই!
কথা শুনেই দুঃখী পিতা, হাউমাউ করে কাঁদে
মেয়ের বিয়ে ভাঙ্গবে না আর, মনে আশা বাধে!
খরচ যতো হোক না কেনো, কোন সমস্যা নাই
ভিটে-মাটি বিকি দিবে, নছিমনের সুখের লাই।

ক্ষণিক পরে জামাইর মাকে,ঘরে ডেকে আনি
বিয়ের পরেই যে সমস্যা হয়েছ, যতটুকু জানি
অভয় দিয়ে বলি মা গো, চিন্তারতো কিছুই নাই
চিকিৎসাতেই সেরে যাবে সে, একটু সময় চাই।

পরিচিত এক বড় সার্জনে,মোবাইল কল দিয়ে
নছিমনের ইতিহাস জানাই, লজ্জ্বা-শরম নিয়ে।
অপারেশনটা হয় নিখরচে, স্যারের মহৎ প্রাণ
শ্রবণশক্তি ফিরে এসেছে, আল্লাহ যে মহান!

এক বছর পরে নছিমন, আবার চেম্বারে আসে
স্বামীর হাতে মিষ্টির হাড়ি, কোলের শিশু হাসে!
স্বামীর দিকে তাকিয়ে সে ,নালিশের সুরে বলে
বকে দেন স্যার বাবুর বাবাকে,খুবই কথা বলে!!

 

ডা. এম.নূরুল ইসলাম
আবাসিক সার্জন(ইএনটি), সিওমেকহা।