মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ছাতকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ



টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে প্লাবিত হয়েছে পুরো ছাতক উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েন উপজেলার প্রায় দু’লক্ষ মানুষ। দু’সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় সৃষ্ট এ বন্যায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
প্লাবিত এলাকার লোকজন বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যাকবলিত এলাকায় পাকা ও কাচা রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় মানুষজনকে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে মারাত্নক দুর্ভোগ।
ছাতকে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও এখনও নিমজ্জিত রয়েছে অনেক ঘরবাড়ি। এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বানভাসি মানুষ। পুরোপুরি চালু হয়নি জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। শ্রমিক ও দিনমজুরা বেকার রয়েছেন। এর সাথে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট।
বন্যার পানির তোড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে এখানের সড়ক যোগাযোগ। কোন কোন এলাকায় পানি নেমে গেলেও কাদা ও ভাঙা ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তার কারণে মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।
উপজেলার ছাতক-আন্ধারীগাও-জাউয়া, হাসনাবাদ-নয়া লম্বাহাটি, গোবিন্দগঞ্জ-বসন্তপুর, কৈতক-মানিকগঞ্জবাজার সড়কসহ অধিকাংশ সড়ক ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তলিয়ে রয়েছে সবগুলো ইউনিয়নের আমনের বীজতলা। কৃষককুলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
বিভিন্ন মৎস্য খামার তলিয়ে গিয়ে কয়েক কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য চাষীরা। মানুষের ঘরবাড়ি থেকে এখনো নামেনি বানের পানি।
উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নই বন্যাকবলিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হলেও, প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল।