মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দ.সুনামগঞ্জে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গোয়াইনঘাটে উদ্ধার : ৩ ছিনতাইকারী আটক



জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার মাহমদপুর এলাকার মহাসিং নদীর পূর্বপাড়ে সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়ক হইতে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গোয়াইনঘাট থানা এলাকার হইতে উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগষ্ট) আগভোর রাতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই জয়নাল আবেদীন ও এএসআই সমীরণ চন্দ্র দেব সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানাধানা এলাকার পূর্ব জাফলং গ্রামের ধৃত আসামী মোহাম্মদ আলীর ফুফাতো বোন জামাই জনৈক আলা উদ্দিনের বসত বাড়ীর উঠান হইতে ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়ীটি উদ্ধার করেন। যাহার রেজি নং- সুনামগঞ্জ থ-১১-১৪৬৯, মূল্য অনুমান-৩,৫০,০০০/-(তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা।

এ ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারী সিলেটের বিশ^নাথ থানার রহমাননগর এলাকার সোনাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী(২৩), একই জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন নোয়াগ্রাম উত্তর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের ছেলে আলিম উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে নাজমুল হাসান খসরুকে গ্রেফতার করেন।

স্থানীয়,পুলিশ ও ভিকটিম সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগষ্ট বিকাল বেলা বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন কাইতকোনা সাকিনের দুলাল মিয়ার ছেলে ফরহাদ মিয়া তাঁর সিএনজি গাড়ী নিয়া যাত্রীর অপেক্ষায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ব্রীজের উপর অবস্থান করে। তৎসময় গাড়ী চালাক ফারহাদ মিয়াকে মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কল দিয়া ওয়েজখালী পয়েন্ট হইতে সুনামগঞ্জ সদর এলাকা হইতে ছাতক থানা এলাকার জাউয়া বাজারে যাইবে বলিয়া সিএনজি গাড়ীটি ভাড়ায় নিয়া যায়। গাড়ী চালক ফরহাদ মিয়া অজ্ঞতনামা ব্যক্তিকে সিএনজি গাড়ীতে করিয়া জাউয়া বাজারে উদ্দেশ্যে রওয়ানা করিয়া সন্ধ্যা অনুমান-০৭.৩০ ঘটিকার সময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা এলাকার মাহমদপুর এলণাকায় যাওয়ার আগে মহাসিং নদীর পূর্ব পাড়ে সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়ক দিয়া যাওয়ার সময় সিএনজি গাড়ীতে থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি প্রস্রাবের কথা বলিয়া গাড়ীটি থামায়। তখন পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা আরো দুই অজ্ঞাতনাম ব্যক্তি গাড়ী চালক ফরহাদ মিয়াকে ধরিয়া ফেলে এবং দেশীয় অস্ত্রের মুখে ফরহাদকে জিম্মি করে গাড়ী থেকে নামিয়ে তাঁর দুই হাত রশি দিয়ে বাঁধিয়া মাটিতে ফেলিয়া কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া মারাত্মক জখম করে এবং অজ্ঞাতনামা লোকজন ছুরি দিয়ে ফরহাদকে প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ নিয়া যায় এবং ভিকটিম ফারহাদ মিয়াকে হাত-পা বাঁধিয়া রাস্তার পাশে পানিতে ফেলিয়া দেয়। পরে অজ্ঞাতনামা লোকজন ফরহাদ মিয়ার গাড়ীটি ছিনতাই করিয়া নিয়া যায়। ভিকটিম ফরহাদ মিয়া গড়াগড়ি করিয়া মাথা রাস্তারে পাশে থাকা বড়ই গাছের গোড়ার সাথে আটকে গিয়ে পানি না পড়ে প্রাণে রক্ষা পান। উক্ত ঘটনার পর গাড়ী চালক ফরহাদ মিয়ার মোবাইলে ফোন দেওয়া নাম্বারের সূত্রে ধরে তদন্তে নামে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ। প্রথমে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই জয়নাল আবেদীন থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ কাজী মোক্তাদির হোসেনর নির্দেশনায় অত্র মামলার ঘটনায় জড়িত সিলেট জেলার জৈন্তা থানা পুলিশের সহায়তায় ছিনতাইকারী মোহাম্মদ আলীকে আটক করেন। পরে মোহাম্মদ আলীর স্বীকারোক্তির মতে গোয়াইনঘাট থানাধীন পূর্ব জাফলং গ্রাম হইতে অভিযান পরিচালনা করিয়া অপর ছিনতাইকারী আলীম উদ্দিনকে আটক করেন। পরবর্তীতে উল্লেখিত ছিনতাইকারীরে দেয়া তথ্যেমতে পূর্ব জাফলং গ্রামের জনৈক আলা উদ্দিনের বসত বাড়ীর উঠান হইতে ছিনতাইকৃত সিএনজি সিএনজি অটোরিক্সা গাড়ীটি উদ্ধার করেন। এরপর সিলেট জালালাবাদ থানাধীন কালীবাড়ী এলাকা হইতে অপর ছিনতাইকারী নাজমুল হাসান খসরুকে আটক করেন। এ ঘটনায় ভিকটিম ফরহাদ মিয়ার পিতা দুলাল মিয়া বাদী হইয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভিকটিম ফরহাদ মিয়া জানান, আমাকে ফোন দিয়া ছিনতাইকারীরা ভাড়ায় নিয়া জাউয়া বাজার যাইতেছিল। পতিমধ্যে আমাকে ডাবর পার হওয়ার পর গাড়ী থামানোর জন্য বলে। আমি গাড়ী থামাইলে হত্যা করিয়া আমার গাড়ী নিয়া যাইতে ছাইছিল। পরে আমার হাত-পা রশি দিয়া বাঁধিয়া ফেলে এবং আমাকে পানিতে ফালাইয়া দেয়। তবে আমি পানিতে পরি নাই। রাস্তার কিনারায় বড়র গাছের গোড়ার সাথে আমার মাথা আটকে ছিল। আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ(ওসি) কাজী মুক্তাদির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাদীর মৌখিক সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে পুলিশ এবং ছিনতাই হওয়া সিএনজি গাড়ী উদ্ধার সহ ৩ ছিনতাই কারীকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধীদেরকেও আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।