বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ | ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : ছাত্র-জনতার মহা-সমাবেশ

না ইদার না উদার : বঞ্চিত হয়ে আসছিলাম যুগের পর যুগ



এক সময়কার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণের আটটি ইউনিয়ন। যথাক্রমে- শিমুলবাক, পাথারিয়া, পূর্ব বীরগাঁও, পশ্চিম বীরগাঁও, দরগাপাশা, পূর্ব পাগলা, পশ্চিম পাগলা ও জয়কলস। ২০০৬ সালে এই আটটি ইউনিয়নকে নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ নামে একটি পৃথক উপজেলা গঠন করা হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ হাইওয়ের পাশে অবস্থিত শান্তিগঞ্জকে কেন্দ্র করে ২০০৮ সাল থেকে নবগঠিত উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সেই পাকিস্তান আমল থেকে সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণের এই আটটি ইউনিয়নকে জুড়ে দেওয়া হতো সুনামগঞ্জ-৩, সংসদীয় ২২৬নং আসনে জগন্নাথপুর উপজেলার সাথে। আর দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসীকে বলা হতো তাদের এমপি. মনোনীত করার জন্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সংসদ নির্বাচন সমূহে আওয়ামীলীগের পক্ষে নৌকার কান্ডারী হয়ে নির্বাচন করে আসছিলেন প্রায়ত নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ। তিনি সারা বছরই ঢাকায় অবস্থান করতেন। কালে-ভদ্রে নির্বাচনী এলাকায় আসলেও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মাটিতে তাঁর পা পড়েছে খুব কমই। ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে জগন্নাথপুর। সেখান থেকে হেমন্তে গাড়ীতে, বর্ষায় নৌকায় নিজ গ্রাম বুড়াখালীই হতো তাঁর গন্তব্য। শুধুমাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় প্রত্যন্ত এলাকার কিছু কিছু গ্রামে তিনি ভোটের জন্য আসতেন। গ্রামে এসেই তিনি খোঁজ নিতেন ঠাকুভাই, মিয়াভাই, দাদা বাবু আর কাকা বাবুদের। এরকম মুষ্টিমেয় কিছু লোকের ওপর তাঁকে ভোট দেওয়ার দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে তিনি অন্য গ্রামের দিকে তাঁর গাড়ি হাঁকাতেন। যথারীতি ভোটের পর দিন তাঁকে এমপি. নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো এবং পাঁচ বছরের জন্য তিনি ঢাকায় নির্বাসিত হতেন। সরকারি কর্মকান্ডে এত ব্যস্ত থাকতেন যে, বছরের পর বছর অতিবাহিত হলেও হাওরবাসীর কান্না শুনার সময় তাঁর হতো না।

মধ্যখানে দীর্ঘ নয় বছর ব্যাপী স্বৈরশাসক এরশাদের শাসনামলেও একই চিত্র। আশির দশকে বর্তমান দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়ন ও গ্রামের চৌধুরী পরিবারের উচ্চশিক্ষিত সন্তান হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। সামরিকজান্তার কাছে বয়াত গ্রহণ করে লাঙ্গলের হাল ধরেন। হাওরবাসীর মনে আশার সঞ্চার হলো। এবার হয়তো বা হাওরাঞ্চলের ভাগ্যন্নোয়নে দৃশ্যমান কিছু হবে। কিছুটা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ তথা সুমানগঞ্জ জেলায়। কিন্তু না যেই লাউ সেই কদু। আমরা বদলী হিসেবে এমপি. পেলাম গোবেচারা ফারুক রশিদ চৌধুরীকে। পূর্বসূরিদের পথ ধরে ওদের ঠিকানাও হলো ঢাকা আর সিলেটের অভিজাত এলাকার বিলাসবহুল বাস ভবনে। এভাবেই শুধুমাত্র ভোটের প্রয়োজনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসীকে কখনো যোগ দিতে হতো জগন্নাথপুর আবার কখনো সুনামগগঞ্জ সদরে। তাদের সেই সম্পর্ক ভোট প্রদানের, আর সেটা স্থায়ী হতো নির্বাচন পর্যন্তই।

জেনারেল এরশাদের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে গঠিত হলো উপজেলা পরিষদ। পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনগুলোতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী ভোট দিলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ভোটার হিসেবে। শহরে বসবাসকারী চেয়ারম্যানরা নির্বাচিত হয়ে মনোযোগী হতেন শহর আর শহরে বসবাসকারী নাগরিকদের নিয়ে। কে ভাবে প্রত্যন্ত এলাকার চাষা-ভুষাদের নিয়ে! কে শুনে ওদের কথা! এভাবে আমরা শুধুমাত্র দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসীই না পুরো হাওরবাসী বঞ্চিত হয়ে আসছিলাম আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে।আর আমরা দক্ষিণ সুনামগঞ্জবাসী থেকে গেলাম কখনো সুনামগঞ্জ সদর আবার কখনো জগন্নাথপুরের সাথে এক টানা-পুরনের সম্পর্কের মধ্যে। সহজ কথায় আমাদের অবস্থান হলো- না ইদার না উদার। না ঘরকা না ঘটকা। এভাবেই আমরা বঞ্চিত হয়ে আসছিলাম যুগের পর যুগ।

২০০৫ এর উপনির্বাচনে আশা আর স্বপ্ন নিয়ে হাওরবাসীর পাশে এসে দাঁড়ালেন জনাব এম. এ. মান্নান। স্বমহিমায় স্থান করে নিলেন পশ্চাৎপদ হাওরবাসীর হৃদয়ে। তিনি খুব সযতেœ বদলে দিলেন অত্র এলাকার রাজনীতির সংজ্ঞা। তিনি তাঁর কর্মকান্ডে বুঝিয়ে দিলেন- ঢাকা আর সিলেটের বিলাসবহুল ভবনে আরাম-আয়েসে বাস করে রাজনীতি করার দিন শেষ। রাজনীতি শিখতে হলে, রাজনীতি করতে হলে গ্রামে যেতে হবে। সুখ-দুঃখে প্রান্তীক জনগণের পাশে দাড়াতে হবে। শুনতে হবে তৃণমূলের কথা, জানতে হবে তাদের চাহিদা। ওদের বোঝতে হবে, ওদের মূল্যায়ন করতে হবে। ওদের ভাগ্যের উন্নয়নই হবে এদেশের প্রকৃত উন্নয়ন। তবেই না একদিন গড়ে উঠবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা।

তারই ধারাবহিকতায় হাওরবাসীর স্বপ্নপূরণে আর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের প্রিয় নেতা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব, এম. এ. মান্নান, এমপি.। তাঁরই আপ্রাণ প্রচেষ্ঠায় হাওর ভাটিতেও আজ দৃশ্যমান হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড। পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী ফিরে আসছে উন্নয়নের মূল শ্রোতধারায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভালই জানেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নই সবকিছু নয়। একটি জাতি-রাষ্ট্রের উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক শিক্ষা। হাওর-ভাটিতে একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা সময়ের দাবী। সেই স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন- সুবিধা বঞ্চিত হাওরবাসীর জন্য নির্মিত হবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়। স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর আর জগন্নাথপুর উপজেলার মধ্যবর্তী তথা বৃহত্তর সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যখানে অবস্থিত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায়।

বলাবাহুল্য দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র শান্তিগঞ্জ। এখানকার শান্ত-স্নিগ্ধ মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। সুনামগঞ্জ জেলার সবকটি উপজেলার সাথে যার যোগযোগও খুবই ভাল। বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জগামী একটি গাড়িতে চড়ে আপনি অতি সহজেই পৌছাতে পারেন শান্তিগঞ্জ।

বুধবার( ১১ নভেম্বর) সকাল ১০ঘটিকায় এই শান্তিগঞ্জেই আয়োজন করা হয়েছে ছাত্র-জনতার এক মহা-সমাবেশ। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হাওরবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হবে কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা। আসুন দ্বিধা-দ্বন্ধ ভুলে আমরা সকলেই ঐতিহাসিক এই মহা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করি এবং ভাটিবাংলার উন্নয়নের রূপকার, আমাদের অতি আপনজন, স্বজ¦ন রাজনীতিবিদ মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ. মান্নান মহোদয়ের পাশে দাঁড়াই; উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখি। এতসব উন্নয়ন কর্মকান্ড তো সুবিধা বঞ্চিত হাওরবাসীর জন্য; আমাদের অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।

বি:দ্র: পরিকল্পনা মন্ত্রী মহোদয়ের এতসব উন্নয়ন কর্মকান্ড যারা খুব কাছে থেকে প্রত্যক্ষ এবং তদারকি করছেন, ১১ নভেম্বরের ছাত্র-জনতার মহা-সমাবেশকে সফল করতে যারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন- বিশেষ করে মন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত রাজনৈতিক সচিব হাসনাত হোসেন, জুয়েল আহমদসহ সকলকে আমার পক্ষ থেকে আন্তরীক শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা।

সূত্র : Shah Jahan ফেসবুক থেকে নেওয়া