মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭

সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সস্টিটিউটের পাথর, বালি ও ইটের স্তুপ : দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই যুবকের



সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহা সড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সস্টিটিউটের নির্মানাধীন ভবনের ইট, বালি, পাথর রাস্তার ধারে না রেখে সরাসরি মহা সড়কের অর্ধেক রাস্তা দখল করে ফেলে রাখায় রাত-বিরাতে ঘটছে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে অকালে ঝড়ে গেছে দুই যুবকের প্রাণ এবং আহত হয়েছেন অনেকেই। সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উদাসীনতা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্টানের কর্তা ব্যক্তিদের দায়ী করছেন স্থানীয় পথচারী, যাত্রী সাধারণ।

রবিবার(১০ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০ টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাস্থ শান্তিগঞ্জ এলাকায় নির্মানাধীন সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সস্টিটিউটের নির্মানাধীন ভবনের সামনে রাস্তায় স্তুপ করে রাখা পাথরের স্তুপে দ্রুতগতিতে আসা ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী মামুন পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ও সিলেট গামী সিএনজি(অকোরিক্সা) রাস্তা সংর্কীণ হওয়ার কারণে মুখমুখি সংঘর্ষে পতিত হয়। এতে সিএনজি গাড়ী চালক সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানা এলাকার খালপাড় গ্রামের মৃত আকল আলীর ছেলে মো. সুহেল মিয়া(৩২) গুরুতর আহত হন। ঐদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মারা যান।

এদিকে গত (১৫ ডিসেম্বর-২০২০) সোমবার একস্থান শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সস্টিটিউটের নির্মানাধীন ভবনের রাস্তায় ফেলে রাখা ইট, পাথর ও বালি রাখার স্তুপে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের মোটর সাইকেল আরোহী জলিল মিয়া(২০) নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গুরুতর আহত হন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান।

সিএনজি গাড়ী চালক শহীদ মিয়া জানান, শান্তিগঞ্জ এম এ মন্নান সাহেবের বাসার সামন হইতে সদরপুর বাক পর্যন্ত রাস্তাটি প্রায় ১ কিলো মিটার সোজা রাস্তা। যার কারণে অনেক গাড়ী চালক রাস্তা সোজা এবং ফাঁকা দেখে গাড়ীর স্পীড বাড়িয়ে দেন। পথিমধ্যে সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সস্টিটিউটের নির্মানাধীন ভবনের রাস্তায় ফেলে রাখা ইট, পাথর ও বালি রাখার স্তুপের কাছে এসে অন্য গাড়ীকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে দুর্ঘটনা পতিত হচ্ছেন।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সুনামগঞ্জ গণপুর্ত বিভাগে কর্মকর্তার সহিত আলাপ আলোচনা হয়েছে। ২/৩ দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, রাস্তায় বালি, পাথর না রাখার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েছি। রাস্তায় ইট, বালি ও পাথর রাখা যাবে না। তারপরও আমি বিষয়টি দেখতেছি।