সোমবার, ১৪ জুন ২০২১ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী



অতি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ী ঢল ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় তৃতীয় বারের মতো বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারের অনেকেই বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র সহ আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের বসত বাড়িতে আশ্রয়ন নিয়েছেন। পাশপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকরারি ত্রান পানি বন্দি পরিবারে মাঝে পৌছে দেয়া হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ ভবনে মোট ৩৬টি বন্যায় আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ০৮ট ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার ১শত ৯০ জন লোক প্রায় ৫শতাধিক পরিবারের সদস্যরা বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র আশয় গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও পানিবন্দি এ উপজেলার অধিকাংশ পরিবার উচু বসত বাড়ী ও পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়ের বসত বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাট এখন পানির নিচে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
উপজেলায় বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে বন্যায় তৃতীয় ভারের মতো শুরু হওয়ায় বানভাসি মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গত পাঁচ দিন সরেজমিনে জেলার বন্যাকবলিত উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নের মানুষের দুর্দশার এ ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্য ফিসাতে মাছ ভেসে যাওয়ায় অনেক মৎস্যজীবি আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাছাড়া দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫৫ টি চালকমিল রয়েছে অধিকাংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় চালকল মালিকগণ আর্থিক ক্ষতির পাশপাশি চাল উৎপাদন ব্যহত হইতেছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন জেলায় বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে জিআর ৬৭০ মেট্রিক টন জিআরের চাল ও নগদ ৫১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ ২১ হাজার লোক পানিবন্দী রয়েছেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় পরিকল্পনা মন্ত্রী আলহাজ¦ এম এ মান্নানের দিক নির্দেশনায় দলীয় ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী সহ দলীয় নেতাকর্মীরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ, কর্মহীন ও দিনমুজরদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে ত্রান পৌছে দিয়েছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নুর হোসেন জানান, এউপজেলার সজ্জন রাজনীতিবিদ পরিকল্পনা মন্ত্রী আলহাজ¦ এম এ মান্নানের জন্মস্থান। চলতি বছরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র জনগণ পরপর ৩টি বন্যার কবলে অভাব অনাহারে ও অর্থ কষ্ঠে পড়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। আগামী দিনেও ত্রান বিতরণ অব্যাহত থাকবে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. সাহাদাত হোসেন ভ‚ইয়া বলেন ইতিমধ্যে সকরার দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অধীনে ৬৬ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৪ লাখ টাকা এবং ২শ প্যাকেট শুকনো খাবার হতদরিদ্র বন্যার্থদের মাঝে সরকারের দিক নির্দেশনায় ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শক্রমে চাল, ডাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার পৌছে দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে করোনাকালীন ও প্রথম বন্যাকালীন সময়ে আরো ৩৬ মেট্রিক টন চাল উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৪৫০টি পরিবরের মাঝে পৌছে দেয়া হয়েছে।
দক্ষিণ সুনামমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী জানান, ইতিমধ্যে আমাদের উপজেলার ৩৬টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র পানিবন্দি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। নিয়মিত ভাবে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছি। এ উপজেলায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেখেছি এবং বন্যার্থদের মাঝে ত্রান বিতরণ করেছি। আগামী দিনেও বন্যার্থদের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রান বিতরণ করা অব্যাহত থাকে।