সোমবার, ১৪ জুন ২০২১ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে জলমহাল শুকিয়ে মৎস্য নিধন : নিরব ভূমিকায় প্রশাসন



জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় চাতল উদয়তারা জলমহাল ও বিল সরকারি নীতিমালা লংঘন করে উপজেলার কাঠালিয়া আক্তাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি: এর বিরুদ্ধে সরকারি ইজারাকৃত বিল সেচের মাধ্যমে মৎস্য আহরনের অভিযোগ উঠেছে। বিলের তলা শুকিয়ে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকলে ও সরকারি নীতিমালাকে অমান্য করে কাঠালিয়া আক্তাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি: এর লোকজন মৎস্য নিধন করে দেশী মাছের বংশ বিস্তার ধ্বংসের দিকে ঢেলে দিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী জলমহালে (বিলের) তলা শুকিয়ে মৎস্য নিধন গুরুতর অপরাধ। এমনকি ইজারা বাতিলের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অদৃশ্য শক্তি ও অভিনব কৌশলে উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিলেরই মৎস্যজীবির সমিতির লোকজন জলমহাল শুকিয়ে মাছ নিধন করে চলেছে। কার স্বার্থে দেশী মাছের প্রজাতী নষ্ট করা হচ্ছে সচেতন মহলে এমন প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জানা যায়, চাতল উদয়তারা জলমহালটি বিগত ৬ বছর আগে লিজ নেয় কাঠালিয়া আক্তাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জলমহাল সেচ করে শুকিয়ে মৎস্য নিধনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক বজলু মিয়া কয়েকদিন যাবৎ চাতল উদয়তারা গ্রæপ জলমহালের বিভিন্ন গ্রুপ শুকিয়ে মাছ আহরণ করছে। সর্বশেষ উদয়তারা জলমহালে মূল বেই (তলা) গত ১০ ফেরুয়ারী রাতে লোক চক্ষুর অন্তরালে সেলো পানির পাম্প দিয়ে সেচ করে শুকিয়ে দেশীয় প্রজাতির হাজার হাজার মা মাছ নিধন করেছেন। এই বিলে একটি অভয়াশ্রম ছিলো সেটিও শুকিয়ে মাছের বংশ ধ্বংশ করেছেন ইজারাদার।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) সকালে সর্বশেষ চাতল বিলে পানির পাম্প লাগিয়ে বিলের বেই শুকিয়ে মাছ নিধনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে কাঠালিয়া আক্তাপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি: এর লোকজন। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের লোকজন বিলে গিয়ে পানির পাম্প তুলে নেওয়ার কথা বলে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করিলেও সরেজমিনে বিকেল বেলা জলমহালে শেলো পানির পাম্প লাগিয়ে বিল সেচ ও মাছ ধরায় ব্যস্থ রয়েছে সমিতির লোকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিকা ব্যক্তি বলেন, ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে বিগত ৬ বছর যাবৎ জলমহাল শুকিয়ে বড় বড় মা মাছগুলো নিধন করে মাছের বংশ ধ্বংস করা হচ্ছে।
আক্তাপাড়া কাঠালিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি নজররুল ইসলাম বিল সেচ করার কথাটি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিলের থলা শুকিয়ে মাছ ধরছি না, শেলো মেশিন লাগিয়ে বিলের পানি কমিয়েছি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী রাশেদুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিষেধ করা সত্ত্বেও সমিতির লোকজন কেন তা করলো এই বিষয়ে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠাবো।
উপজেলা মৎস্য অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শরিফুল আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমার অফিসের লোকজন পাঠিয়ে অভয়াশ্রম সেচ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। কিন্তু লোকজন রাতের আঁধারে বিল সেচ করে মৎস্য নিধন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, যদি সরকারী নীতিমালা অমান্য করে বিল সেচ করে মৎস্য নিধন করা হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।