শনিবার, ৮ মে ২০২১ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

শতভাগ স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ

৫০ কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপন হচ্ছে গভীর নলকূপ, স্যানিটেশন ও হাত ধোয়ার ভেসিন স্থাপন




জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দেড় লক্ষাধিক পরিবারের মাঝে নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানেটারী লেট্রিন ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ৫টি স্থানে হাত ধোয়ার ভেসিন স্থাপন করেছে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ১৩৩টি গ্রামে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ৪ হাজার বিশুদ্ধ পানির নলকুপ, ৩ হাজার ৬শটি স্বাস্থ্য সম্মত সেনেটারী ল্যাট্রিন ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হাত ধোয়ার ভেসিন স্থাপন করায় গ্রপামের হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন সুফল পাবে বলে নিশ্চিত করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে করোনার কালীন সময়ে উপজেলাবাসীকে রক্ষা করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ৪টি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ, থানা প্রাঙ্গণ, পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শান্তিগঞ্জ বাজারের পূর্ব পাশের্^ এসকল হাত ধোয়ার ভেসিন স্থাপন করে হাত ধোয়া কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপির ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় তাঁর নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জ-০৩ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) উপজেলার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানির অভাব নিরসনে ও শতভাগ স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্টিন স্থাপনে শতকোটি টাকা সরকারের বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে হতদরিদ্র পরিবারকে শতভাগ স্যানিটেশনের আওতায় নিয়ে আসতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৫০ কোটি ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার জয়কলস, দরগাপাশা, পাথারিয়া, শিমূলবাক, পশ্চিম পাগলা, পূর্ব পাগলা, পূর্ব বীরগাঁও ও পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের হতদরিদ্র ৫টি পরিবারের মাঝে ১টি করে নির্বাচিত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে গভীর নলকূপ ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানেটারী নলকূপ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে এবং অনেক পরিবার ইতিমধ্যে সুফল ভোগ করছেন।
জয়কলস গ্রামের আস্তমা গ্রামের হতদরিদ্র খুদেজা বিবি জানান, আমার বসত বাড়ীর আমপাশে কোন নলকূপ ছিল না। অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি আনতে হতো, সব সময় পানি আনা যেতো না। বাই (পুরাতন) পানি পান করতে হত। এখন সরকারি নলকূপ পাওয়ায় টাটকা পানি পান করি।
আস্তমা গ্রামের কোষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হতদরিদ্র খোয়াজ আলী জানান, আমি কারো বাড়ির নলকূপে যেতে পারতাম না। আমি সহ আমার পরিবারের কারও কাছে কোন মানুষ আসতো না, তাই বাধ্য হয়ে খালের পানি পান ও ব্যবহার করতে হতো। এখন সরকারি নলকূপ পাওয়াই বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছি।
অন্যদিকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মঙ্গলবার(২৭ এপ্রিল) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশনের তত্ত¡াবধানে সরকারি অর্থায়নে উপজেলায় আসা উপকারভোগী লোকজন ‘‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস, ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে প্রধান সহায়ক হিসাবে উপজেলায় বিবেচিত হচ্ছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা ভবন চত্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশনের স্থাপন করা হাত ধোয়ার বেসিনে সেবা নিতে আসা লোকজন ভাল ভাবে সাবান দিয়ে হাত ধৌত করছেন। প্রতিনিয়তই প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সরকারি দপ্তরে প্রবেশের পূর্বেই হাত ধৌত করছেন এবং বেসিনে সাবান রাখা ও নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করছেন। যাতে করে সেবা প্রদান কারী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ জীবানু মুক্ত হয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেবা গ্রহীতা লোকজনও সেবা নিতে পারেন।
উপজেলার পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আমিনুর রশিদ জানান, আমি দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বিগত দিনে জনগণের নলকূপের চাহিদা করতে পারিনি। সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রীর প্রকল্পের মাধ্যমে গভীর নলকূপ ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানেটারী নলকূপ স্থাপনের ফলে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার এর সুফল পাচ্ছে।
দক্ষিণ সুনামসগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন জানান, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি হতদরিদ্র মানুষের যে, পরিমান উপকার হয়েছেন। তা স্বপ্নেও কল্পনা করা যেতো না। উপজেলা পরিষদ চত্বরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশনের নির্মিত হাত ধোয়ার ভেসিন করোনা কালে পরিষদে সেবা নিতে আসা লোকজন ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন সাবান ও পানির সরবরাহ নিশ্চিত করছি। যাতে করে এলাকার মানুষজন জীবানু মুক্ত হয়ে পরিষদের প্রবেশ করতে পারেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক আহমেদ জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রী গ্রামের মানুষ। গ্রামের মানুষের কথা চিন্তা করেন। বিশেষ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারে মাঝে গভীর নলকুপ ও স্যানেটারী ল্যাট্রিন স্থাপন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এভাবে পরিকল্পনা মন্ত্রী দরিদ্র জনগোষ্ঠির উন্নয়নের আরো বড় বড় প্রকল্প নিয়ে আসেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী জানান, উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে সেবা নিতে আসা লোকজনদেরকে পরিষদ চত্বরে হাত ধোয়ার ভেসিনে হাত ধোয়া এবং নো মাস্ক, নো সাভিস নিশ্চিত করে বিভিন্ন অফিসে প্রবেশ করতে হচ্ছে। আমি নিজেও এই বেসিনে হাত মূখ ধোয়ে অফিসে প্রবেশ করি। এখাসে সাবান পানির ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক ভাবে রাখা হয়েছে। মাঝে মধ্যে কিছু দুষ্টু লোকজন সাবান নিয়ে যায়। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি স্যার বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারী লেট্টিন দেওয়ায় এলাকার মানুষ অনেক উপকৃত হতদরিদ্র লোকজন উপকার পাচ্ছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (অ.দা) আব্দুর রব সরকার জানান,পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি স্যারের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় ১শত কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে হতদরিদ্র নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি স্যারের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিটি গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই সাথে করোনা প্রর্দুভাব রুখতে আমরা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাত ধোয়ার ভেসিন স্থাপন করেছি। যার ফলে কারোনাকালে ব্যাপকভাবে মানুষের উপকারে আসছে। প্রতিনিয়তই এই বেসিন গুলোতে সাবান পানি নিশ্চিত করা হচ্ছে।